মার্চে মার্কিন শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়ার পূর্বাভাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে অনিশ্চয়তা বাড়লেও মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

ফেব্রুয়ারিতে বড় ধরনের ধসের পর গত মাসে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আগামী দিনগুলোয় দেশটির শ্রমবাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খবর রয়টার্স।

অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে প্রায় ৬০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ৯২ হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছিল, যা ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বড় বিপর্যয়। মূলত ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট শেষ হওয়া এবং শীতকালীন বৈরী আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নির্মাণ ও পর্যটন খাতে আবারো নিয়োগ শুরু হয়েছে। এসব কারণেই মার্চে ইতিবাচক ফলাফল আশা করা হচ্ছে।

তবে এ স্বস্তির মাঝেও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তেলের এ উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব এপ্রিল ও মে মাসের প্রতিবেদনে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর শুল্কনীতি এবং অভিবাসীদের গণ-উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার কারণেও শ্রমবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে একদিকে যেমন কর্মীর সংকট দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে পণ্যের চাহিদাও কমে যাচ্ছে। গত মাসে পুঁজিবাজার থেকেও কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত মার্কিন শ্রমবাজার এক ধরনের মন্থর গতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নতুন নিয়োগ যেমন কম, তেমনি ছাঁটাইয়ের হারও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রভাবে সামনের মাসগুলোয় অর্থনীতি আরো চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও